Saturday, March 26, 2022

মন বান্ধিবি কেমনে

 

আমার হাত বান্ধিবি পা বান্ধিবি মন বান্ধিবি কেমনে

গত ১৭ ই মার্চ রিলিজ হল বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী এফ এ সুমনের নতুন একটি গানের মিউজিক ভিডিও। গানটির শিরোনাম ছিল- মন বান্ধিবি কেমনে। শিল্পী এফ এ সুমনের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল (F A Sumon Official) থেকে রিলিজ করা হয়েছে। শুটিং হয়েছে খুলনায় এবং মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছে খুলনার জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান জিএম মাল্টিভিশন। এটি গ্রাম বাংলার একটি চমৎকার প্রচলিত লোকসঙ্গীত।

‘মন বান্ধিবি কেমনে’ গানটির মিউজিক করেছেন শিল্পী নিজেই। গানটির গীতিকারের নাম ইউটিউব চ্যানেল Traditional (প্রচলিত) লেখা আছে। সুর ও সঙ্গীত লেখা আছে Collected (সংগৃহীত)। কিন্তু হাত বান্ধিবি পা বান্ধিবি মন বান্ধিবি কেমনে লিরিক্স বা হাত বান্ধিবি পা বান্ধিবি মন বান্ধিবি কেমনে লেখক কে, এটা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।‘

আমার হাত বান্ধিবি পা বান্ধিবি মন বান্ধিবি কেমনে’ গানটি সাহানা বাজপেয়ী (২০১৬) গাওয়ার পর বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।ইউটিউব চ্যানেলে গানটি ৪ মিলিয়নের বেশি ভিউ হয়। সাহানা বাজপেয়ীও গানের বর্ণনায় ঐ একই কথা লিখেছেন। সাহানা বাজপেয়ী কলকাতার একজন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। তিনি সাধারণত রবীন্দ্রসঙ্গীত, ফিউশন ও লোক সঙ্গীত গেয়ে থাকেন। 

শিল্পী সাহানা বাজপেয়ী 
এখন অবশ্য ঋষি পাণ্ডের (২০২১) কণ্ঠে গানটি ইউটিউবে বেশি ভিউ হয়েছে। ঋষি পাণ্ডের গাওয়া মিউজিক ভিডিওটির ভিউ সংখ্যা প্রায় ৫ মিলিয়নের কাছাকাছি। 

শিল্পী ঋষি পাণ্ডে
কিন্তু করোনাকালীন সময়ে (২০২০) কলকাতার গুণী শিল্পী দেব গৌতম গানটি পুনরায় পরিবেশন করেন। দেব গৌতম শুধুমাত্র একজন শিল্পী নয়, তিনি একাধারে একজন সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক।

মজার ব্যাপার হল শিল্পী দেব গৌতম ভিডিওটি নিজের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেজবুকে ছাড়ামাত্রই গানটি ভাইরাল হয়ে যায়। দেব গৌতম গানটির বর্ণনায় লিখেছেন-“.....  So far my knowledge goes.....which I have gathered from different sources...partially this song has been inspired by a famous sylheti folk song..." Haat bandhibo...phao bandibo" sang by Shah Abdul Karim , a renowned baul fakir of sylhet, Bangladesh.

All insturment playing, recording, mix master and sung by Dev goutam.”

অর্থাৎ তার বর্ণনা অনুযায়ী ‘আমার হাত বান্ধিবি’ গানটি বাংলাদেশের সিলেটের বিখ্যাত বাউল সঙ্গীত শিল্পী ও গীতিকার শাহ আব্দুল করিম এর "হাত বান্ধিবো...ফাও বান্দিবো" গানের আংশিক অনুপ্রাণিত। গীতিকার যেই হোক না কেন লিরিখ  ও সুর  যে অসাধারণ, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

‘মন বান্ধিবি কেমনে’ গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেল ছিলেন অনন্যা। জিএম মাল্টিভিশনের হয়ে অনন্যার এটি প্রথম কাজ। তার প্রত্যাশা নিজেকে একজন সফল অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। প্রথম কাজ হলে অনন্যা খুব ভাল অভিনয় করেছেন।

মডেল অনন্যা 
মিউজিক ভিডিওটির রূপসজ্জা করেছেন রোজ এবং সিনেমাটোগ্রাফার ছিলেন সিএম আবির।সমগ্র মিউজিক ভিডিওটির ডিওপি, কালার, সম্পাদনা ও পরিচালনা করেছেন এম এ সোবহান।এম এ সোবহানকে আসলে কোন একটি নির্দিষ্ট বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। একক হাতেই ধীরে সুস্থ্যে জিএম মাল্টিভিশনের প্রতিটি কাজ যত্নসহকারে সমাপ্ত করেন। ভিডিও নির্মাণ কাজে তিনি একজন জাদুকরসম।

শিল্পী এফ এ সুমনের ‘আমার দেহের মরন হলে’ গানটিও জিএম মাল্টিভিশন তৈরি করেছিল। যেটি ১০ই মার্চ রিলিজ করা হয়েছি। মিউজিক ভিডিওটি ইতিমধ্যে লক্ষাধিক ভিউ অতিক্রম করেছে। আর ‘মন বান্ধিবি কেমনে’ গানের মিউজিক ভিডিওটিও প্রথম থেকেই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।২১ শে মার্চ জিএম মাল্টিভিশনের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল “জিএম সিনেভিশন” থেকেও গানটি রিলিজ করা হয়েছে।

জিএম মাল্টিভিশনের সাথে শিল্পী এফ এ সুমনের সম্বন্ধ নতুন নয়। এফ এ সুমনের শুরু থেকে জিএম মাল্টিভিশন সবসময় পাশে ছিল এবং এখনো আছে। ‘জান রে তুই’ ‘পাগলি রে’ ‘তোর লাগি এ জীবন’ থেকে শুরু করে ‘পরান যায় রে যায়’ ‘যাযাবর’ হয়ে এই পর্যন্ত জিএম মাল্টিভিশন, শিল্পী এফ এ সুমনের সাথে রয়েছে। দুজনের পথচলা হোক আরও দীর্ঘ, এই কামনা করি।

শিল্পী এফ এ সুমন 
আপনি এই লিংকে ক্লিককরে গানের মিউজিক ভিডিওটি দেখতে পারেন। ভিডিওটি ভাল লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করবেন। আর আমার লেখা যদি আপনার মনপুত হয়, তাহলে Follow করে আমার সাথে থাকুন এবং কমেন্ট করে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না।

আপনি ইচ্ছা করলে ‘মন বান্ধিবি কেমনে’ গানের লিরিখ এখান থেকে সংগ্রহ করতে পারেন!

Monday, March 14, 2022

আমার দেহের মরন হলে | এফ এ সুমনের নতুন গান

প্রিয় শিল্পীর একটি গান শোনার জন্য লক্ষ কোটি শ্রোতা প্রতীক্ষায় থাকে, যার গানের ভিডিও দেখার জন্য গভীর আগ্রহে বসে থাকে গভীর প্রত্যাশা নিয়ে। কারণ একজন শিল্পী জায়গা করে নেয় শ্রোতাদের অন্তরে। এফ এ সুমন তেমনই একজন শিল্পী, যার গানের অপেক্ষায় থাকে কোটি কোটি দর্শক শ্রোতা। সেই দর্শক শ্রোতাদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ১০ই মার্চ প্রকাশিত হল বাংলাদেশের এসময়ের জনপ্রিয় শিল্পী এফ এ সুমনের নতুন বাংলা গান “আমার দেহের মরন হলে”। শিল্পী এফ এ সুমনের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল থেকে মিউজিক্যাল ফিল্ম আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। ইউটিউব চ্যানেলে শিরোনাম ছিল- “আমার দেহের মরন হলে | Amar Deher Moron Hole | F A Sumon | Bangla Sad Song 2022 | F A Sumon Official” গানটি শুরুতেই জনপ্রিয়টা অর্জন করেছে।

“আমার দেহের মরন হলে” গানটি লিখেছেন গীতিকার সায়েদ রহমান।গানটি সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন শিল্পী নিজেই। পূর্বেও এফ এ সুমন নিজের গান ছাড়াও বহু গানের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। মিউজিক্যাল ফিল্ম নির্মাণ করেছে খুলনার জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান “জিএম মাল্টিভিশন”। জিএম মাল্টিভিশন , এফ এ সুমনের গানে এই প্রথম মিউজিক্যাল ফিল্ম নির্মাণ করেনি। পূর্বেরও বেশকিছু জনপ্রিয় মিউজিক্যাল ফিল্ম বা মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছে, যার মধ্যে ‘জান রে তুই’ ‘পাগলি রে’ ‘পরান যায় রে যায়’ ‘যাযাবর’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য এবং জনপ্রিয়। শুধুমাত্র শিল্পী ও প্রোডাকশন হাউজ নয়, অনেক মডেল বা অভিনয় শিল্পীও দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে এবং নিচ্ছে প্রতিনিয়ত।জায়গার ক্ষেত্র শুধু ছোটপর্দা নয়,বড়পর্দায় স্থান করে নিয়েছে অনেকে।  

“আমার দেহের মরন হলে” শিল্পী এফ এ সুমন

মিউজিক্যাল ফিল্মেটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাকিব সুলতান ও পল্লবী পলি। রাকিব সুলতান আগে থেকেই একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। আর জিএম মাল্টিভিশনে পল্লবী পলির এটি প্রথম কাজ নয়। জিএম মাল্টিভিশনে আরও অনেক কাজ করেছেন তিনি। তিনি এখন খুলনার উদীয়মান মডেলদের মধ্যে অন্যতম।পল্লবী পলি সম্পর্কে জিএম মাল্টিভিশনের কর্ণধর এম এ সোবহান বলেন, “তার কাজে আমি ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করছি।তার এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সে শুধু মডেল হিসেবে নয় একজন যোগ্য অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতে পারবে।আমার দোয়া তার পাশে থাকবে সবসময়।”

রাকিব সুলতান ও পল্লবী পলি

মিউজিক্যাল ফিল্মেটিতে আরও অভিনয় করেছেন সাইফ হাসান, আবির সিএম এবং প্রিন্স। সাইফ হাসান একজন প্রযোজক হওয়ার সত্ত্বেও শখের বশে অভিনয়ও করে থাকেন। তিনি সাধারণত বিপরীত চরিত্রে অভিনয় করতে পছন্দ করেন। তবে তিনি বাস্তব জীবনে হাস্যোজ্জ্বল, মিষ্টিভাষী এবং আনন্দপ্রিয় বন্ধুসুলভ একজন সৌখিন মানুষ। মিডিয়াকে তিনি ভালোবাসেন মনের অন্তরস্থল থেকে। তাই তার শত কাজের মাঝেও মিডিয়ায় সময় দেন, অর্থের যোগান দেন, পাশে থেকে সাহস যোগান, অনুপ্রেরণা দেন সকল কলাকুশলীদের।

সাইফ হাসান (প্রযোজক)

মিউজিক্যাল ফিল্মেটির কাহিনী লিখেছেন জাহাঙ্গীর আলম। মেকআপ আর্টিস্ট ছিলেন রোজ। দৃশ্যধারণ করেছেন লিঠু।সমগ্র দৃশ্যধারণ পরিচালনা ও সম্পাদনা করেছেন এম এ সোবহান এবং পরিচালনা করেছেন এরফান শাহ্‌ বাবু। এরফান শাহ্‌ বাবু খুলনার একজন জনপ্রিয় অভিনেতা ও  পরিচালক। আর এম এ সোবহান সম্পর্কে লেখার কিছু বাকি থাকে না, যদি জিএম মাল্টিভিশন লেখা হয়।তেমনি জিএম মাল্টিভিশন ও এফ এ সুমনের গান, একটি অন্যটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঠিক যেমন জীবন আর সঙ্গীত একে অন্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।একটিকে বাদ দিয়ে তাই অন্যটির কথা ভাবা যায় না।   

এরফান শাহ্‌ বাবু (বামে) এবং এম এ সোবহান (ডানে)

আপনি এখানে ক্লিক করে “আমার দেহের মরন হলেমিউজিক্যাল ফিল্মেটি দেখতে পারেন। ভাল লাগলে লাইক করুন।কমেন্ট করে আপনার স্বাধীন মতামত প্রকাশ করতে পারেন। কারণ মেকারদের সকল প্রয়াস দর্শকদেরকে ঘিরে। 

“আমার দেহের মরন হলেগানটি কণ্ঠশিল্পী এফ এ সুমনের গাওয়া ভিন্নমাত্রার একটি বিরহের গান। যে সুরের গান বাংলাদেশের আপামর জনতা খুব পছন্দের সাথে গ্রহণ করেছেন। এই গানটিও নিয়েও সকল কলাকুশলীদের তেমনটিই ভাবনা।

ভাল কাজ দেখুন, সঙ্গে থাকুন সবসময়। আর লেখাটি ভাল লাগলে, আপনার কোন উপকারে আসলে অবশ্যই  কমেন্ট করবেন আশাকরি। ধন্যবাদ সকলকে।

 

Thursday, March 10, 2022

চলচ্চিত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, খুলনা

খুলনার চলচ্চিত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় শীর্ষে-‘জিএম মাল্টিভিশন’। চলচ্চিত্র প্রেমীদের  স্বপ্নের খেয়াঘাট!

জিএম মাল্টিভিশন খুলনার একটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান।যার যাত্রা শুরু হয়েছে নব্বইয়ের দশকে।তারপর থেকে জিএম মাল্টিভিশন  ধাপে ধাপে আপডেট হতে হতে এখন ডিজিটাল যুগে পদার্পণ করেছে।বর্তমানে  বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা ততোটা ভাল না। বাংলা সিনেমা এখন কিছুটা মুখ থুবড়ে পড়েছে গত কয়েক দশক ধরে। সরকার সকল কলাকুশলীরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিভাবে চলচ্চিত্র শিল্প এর  উন্নতি করা যায়। কারণ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস খুবই গৌরব উজ্জ্বল ছিল।

সবকিছু বিবেচনা করলে দেখা যায় জিএম মাল্টিভিশন খুব ভাল অবস্থানে রয়েছে।এটি দিনে দিনে উন্নতি করে চলেছে।তাছাড়া আধুনিক সব নির্মাণ সামগ্রী,যোগ্য লোকবল ও পূর্ণাঙ্গ প্রোডাকশন টিম,কোন কিছুর অভাব নেই আজ। চলছে শুধু সুযোগের অপেক্ষা। আর প্রতীক্ষার প্রহর যত দীর্ঘই হোক না কেন,সেটা চিরস্থায়ী হয় না।

GM Multivision, Khulna
চলচ্চিত্র কিচলচ্চিত্র কি, চলচ্চিত্রের শব্দের ব্যবহার কখন থেকে শুরু হয়েছে; এসব বিষয়ে যাচ্ছি না। আপনি কি বলতে পারবেন বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে কোন দেশে? সঠিক উত্তর হল- আমেরিকা, চীন, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারত।এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই কেন? কীসের অভাব বাংলাদেশে? এর উত্তর অনেকেই জানেন আবার অনেকে মানেন না।থাক সে কথা, আমি চাই বাংলা সিনেমা সেরা তালিকায় না গেলেও যেন পূর্বের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে। আবার আলোচ্য বিষয়ে ফিরে আসা যাক।

খুলনার মিডিয়ায় প্রচলিত একটি কথা আছে, “জিএম মাল্টিভিশনে কাজ না করলে নাকি ঢাকায় কাজের ডাক পাওয়া যায় না!” বিষয়টা পুরোপুরি সত্যি না হলেও জিএম মাল্টিভিশন যে উচ্চ মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ করে এটা নিঃসন্দেহে বুঝা যায়।জিএম মাল্টিভিশন থেকে কাজ শিখে, কাজ করে কিংবা অভিনয় করে যারা উচ্চ স্বপ্ন পূরণের জন্য ঢাকায় গিয়েছেন, তারা বেশিরভাগ নিজের জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।উদাহরণস্বরূপ- ২০১০ সালে এম বি মানিক পরিচালিত ‘বলো না তুমি আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় কাজ করা শুরু করেন।তারপর ২০১৫ সালে শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত ‘নদীজন চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তমা মির্জা। তমা মির্জার অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল জিএম মাল্টিভিশন থেকে। তমা মির্জার মতন বহু অভিনয়শিল্পী,গায়ক ও নির্মাতারা তাদের স্ব স্ব জায়গায় আজ প্রতিষ্ঠিত। প্রাথমিক বিদ্যালয় যেমন একজন শিক্ষার্থীর শিকড়।অর্থাৎ ওখান থেকেই তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। খুলনার মিডিয়া অঙ্গনেও জিএম মাল্টিভিশনের অবস্থান তেমনি।আরোহী উদ্ভিদ যত উপরে আরোহণ করুক না কেন, তার শিকড় থাকে মাটিতে।

তমা মির্জা (চিত্রনায়িকা)
জিএম মাল্টিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ গাজী মিজানুর রহমান শুধুমাত্র একজন সফল চিকিৎসক নন, তিনি একাধারে একজন কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার।তিনি বাংলাদেশ বেতারের একজন নিয়মিত শিল্পী ও সুরকার।সিডি ক্যাসেটের যুগে তাঁর জনপ্রিয় বহু সংখ্যক অডিও, ভিডিও এ্যালবাম রয়েছে।যার মধ্যে সোনার বাংলা সিরিজ অন্যতম।এছাড়াও তিনি অসংখ্য ক্লাসিক গান,লোকগীতি,আধুনিক, ম্যালোডি ও রক মিউজিক গেয়েছেন। এমনকি তিনি বিদেশি ভাষাতেও গান গেয়েছেন।নিজের কাজ ছাড়াও সর্বসাধারণের স্বল্প খরচে গান রেকর্ড করার জন্য তৈরি করেছেন আধুনিক যন্ত্রপাতি সম্বলিত একটি অত্যাধুনিক অডিও স্টুডিও।

দক্ষিণ খুলনার মানুষ যেন কম খরচে মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারেন, এমন একটি মহৎ চিন্তা থেকে জিএম মাল্টিভিশনের পথচলা। তাঁর এই পথচলায় বিশ্বস্ত সঙ্গী হলেন এম এ সোবহান। এই প্রসঙ্গে ফরাসি বিখ্যাত লেখক, প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক ভল্টেয়ারের একটি উক্তি মনে পড়েছে, “মহৎ লোকের মহৎ আশা পুরোপুরি সার্থক না হলেও কখনো একেবারে ব্যর্থ হয় না।”

গাজী মিজান (শিল্পী,গীতিকার ও সুরকার)

এম এ সোবহান এমনই একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা,যিনি ফটোগ্রাফি দিয়ে শুরু করলেও নিজের নিরলস পরিশ্রম ও অদম্য প্রচেষ্টার ফলে নিজেকে নিয়ে গেছেন উচ্চতার শিখরে।স্টিল ক্যামেরা হাতে তিনি ছিলেন একজন সফল ফটোগ্রাফার।নব্বইয়ের দশকে বাণিজ্যিকভাবে বিয়ের ভিডিও করার মধ্য দিয়ে তাঁর ভিডিও ক্যামেরায় হাতে খড়ি হয়।তারপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।আজ তিনি খুলনার উচ্চ শিখরের একজন অন্যতম সফল চিত্রগ্রাহক, ফটোগ্রাফির পরিচালক(DOP) ও চলচ্চিত্র পরিচালক ও সম্পাদক।যার পরশ পাথরের ছোঁয়ায় অনেকে খাঁটি স্বর্ণে পরিণত হয়েছে।

M A Sobhan (DOP, Editor & Director)

জিএম মাল্টিভিশনে তৈরি মিউজিক্যাল ভিডিও, নাটক দেশের বহু জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলে বহুবার শুধু প্রদর্শিত হয়নি; জনপ্রিয়তা ও পুরষ্কার অর্জন করেছে।ইউটিউব চ্যানেলেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।স্বপ্ন পূরণের জন্য যেমন সমস্ত সিঁড়ি দেখার প্রয়োজন হয় না, প্রথম সিঁড়িটি দেখতে হয়।তেমনি জিএম মাল্টিভিশন স্বল্পদৈর্ঘ্য পর্যায়ের সিঁড়িগুলোতে সফলভাবে আহরণ করেছে।এখন তাই স্বল্পদৈর্ঘ্যের পর্যায় থেকে জিএম মাল্টিভিশনের সামনে উঁকি দিচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন বা প্রাত্যাশা।

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র যথার্থই বলেছেন, “লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে আমাদের পরিকল্পনা  দিয়ে তৈরী গাড়িতে চড়তে হবে।এটার উপর আমাদের পূর্ণ ভাবে বিশ্বাস রেখে নাছোড়বান্দার মত এগিয়ে যেতে হবে।এটা ছাড়া সাফল্যের আর কোনও পথ নেই!

আমার লেখা ভাল লাগলে কমেন্ট করুন এবং Follow করুন।সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।