Thursday, March 10, 2022

চলচ্চিত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, খুলনা

খুলনার চলচ্চিত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় শীর্ষে-‘জিএম মাল্টিভিশন’। চলচ্চিত্র প্রেমীদের  স্বপ্নের খেয়াঘাট!

জিএম মাল্টিভিশন খুলনার একটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান।যার যাত্রা শুরু হয়েছে নব্বইয়ের দশকে।তারপর থেকে জিএম মাল্টিভিশন  ধাপে ধাপে আপডেট হতে হতে এখন ডিজিটাল যুগে পদার্পণ করেছে।বর্তমানে  বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা ততোটা ভাল না। বাংলা সিনেমা এখন কিছুটা মুখ থুবড়ে পড়েছে গত কয়েক দশক ধরে। সরকার সকল কলাকুশলীরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিভাবে চলচ্চিত্র শিল্প এর  উন্নতি করা যায়। কারণ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস খুবই গৌরব উজ্জ্বল ছিল।

সবকিছু বিবেচনা করলে দেখা যায় জিএম মাল্টিভিশন খুব ভাল অবস্থানে রয়েছে।এটি দিনে দিনে উন্নতি করে চলেছে।তাছাড়া আধুনিক সব নির্মাণ সামগ্রী,যোগ্য লোকবল ও পূর্ণাঙ্গ প্রোডাকশন টিম,কোন কিছুর অভাব নেই আজ। চলছে শুধু সুযোগের অপেক্ষা। আর প্রতীক্ষার প্রহর যত দীর্ঘই হোক না কেন,সেটা চিরস্থায়ী হয় না।

GM Multivision, Khulna
চলচ্চিত্র কিচলচ্চিত্র কি, চলচ্চিত্রের শব্দের ব্যবহার কখন থেকে শুরু হয়েছে; এসব বিষয়ে যাচ্ছি না। আপনি কি বলতে পারবেন বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে কোন দেশে? সঠিক উত্তর হল- আমেরিকা, চীন, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারত।এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই কেন? কীসের অভাব বাংলাদেশে? এর উত্তর অনেকেই জানেন আবার অনেকে মানেন না।থাক সে কথা, আমি চাই বাংলা সিনেমা সেরা তালিকায় না গেলেও যেন পূর্বের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে। আবার আলোচ্য বিষয়ে ফিরে আসা যাক।

খুলনার মিডিয়ায় প্রচলিত একটি কথা আছে, “জিএম মাল্টিভিশনে কাজ না করলে নাকি ঢাকায় কাজের ডাক পাওয়া যায় না!” বিষয়টা পুরোপুরি সত্যি না হলেও জিএম মাল্টিভিশন যে উচ্চ মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ করে এটা নিঃসন্দেহে বুঝা যায়।জিএম মাল্টিভিশন থেকে কাজ শিখে, কাজ করে কিংবা অভিনয় করে যারা উচ্চ স্বপ্ন পূরণের জন্য ঢাকায় গিয়েছেন, তারা বেশিরভাগ নিজের জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।উদাহরণস্বরূপ- ২০১০ সালে এম বি মানিক পরিচালিত ‘বলো না তুমি আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় কাজ করা শুরু করেন।তারপর ২০১৫ সালে শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত ‘নদীজন চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তমা মির্জা। তমা মির্জার অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল জিএম মাল্টিভিশন থেকে। তমা মির্জার মতন বহু অভিনয়শিল্পী,গায়ক ও নির্মাতারা তাদের স্ব স্ব জায়গায় আজ প্রতিষ্ঠিত। প্রাথমিক বিদ্যালয় যেমন একজন শিক্ষার্থীর শিকড়।অর্থাৎ ওখান থেকেই তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। খুলনার মিডিয়া অঙ্গনেও জিএম মাল্টিভিশনের অবস্থান তেমনি।আরোহী উদ্ভিদ যত উপরে আরোহণ করুক না কেন, তার শিকড় থাকে মাটিতে।

তমা মির্জা (চিত্রনায়িকা)
জিএম মাল্টিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ গাজী মিজানুর রহমান শুধুমাত্র একজন সফল চিকিৎসক নন, তিনি একাধারে একজন কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার।তিনি বাংলাদেশ বেতারের একজন নিয়মিত শিল্পী ও সুরকার।সিডি ক্যাসেটের যুগে তাঁর জনপ্রিয় বহু সংখ্যক অডিও, ভিডিও এ্যালবাম রয়েছে।যার মধ্যে সোনার বাংলা সিরিজ অন্যতম।এছাড়াও তিনি অসংখ্য ক্লাসিক গান,লোকগীতি,আধুনিক, ম্যালোডি ও রক মিউজিক গেয়েছেন। এমনকি তিনি বিদেশি ভাষাতেও গান গেয়েছেন।নিজের কাজ ছাড়াও সর্বসাধারণের স্বল্প খরচে গান রেকর্ড করার জন্য তৈরি করেছেন আধুনিক যন্ত্রপাতি সম্বলিত একটি অত্যাধুনিক অডিও স্টুডিও।

দক্ষিণ খুলনার মানুষ যেন কম খরচে মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারেন, এমন একটি মহৎ চিন্তা থেকে জিএম মাল্টিভিশনের পথচলা। তাঁর এই পথচলায় বিশ্বস্ত সঙ্গী হলেন এম এ সোবহান। এই প্রসঙ্গে ফরাসি বিখ্যাত লেখক, প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক ভল্টেয়ারের একটি উক্তি মনে পড়েছে, “মহৎ লোকের মহৎ আশা পুরোপুরি সার্থক না হলেও কখনো একেবারে ব্যর্থ হয় না।”

গাজী মিজান (শিল্পী,গীতিকার ও সুরকার)

এম এ সোবহান এমনই একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা,যিনি ফটোগ্রাফি দিয়ে শুরু করলেও নিজের নিরলস পরিশ্রম ও অদম্য প্রচেষ্টার ফলে নিজেকে নিয়ে গেছেন উচ্চতার শিখরে।স্টিল ক্যামেরা হাতে তিনি ছিলেন একজন সফল ফটোগ্রাফার।নব্বইয়ের দশকে বাণিজ্যিকভাবে বিয়ের ভিডিও করার মধ্য দিয়ে তাঁর ভিডিও ক্যামেরায় হাতে খড়ি হয়।তারপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।আজ তিনি খুলনার উচ্চ শিখরের একজন অন্যতম সফল চিত্রগ্রাহক, ফটোগ্রাফির পরিচালক(DOP) ও চলচ্চিত্র পরিচালক ও সম্পাদক।যার পরশ পাথরের ছোঁয়ায় অনেকে খাঁটি স্বর্ণে পরিণত হয়েছে।

M A Sobhan (DOP, Editor & Director)

জিএম মাল্টিভিশনে তৈরি মিউজিক্যাল ভিডিও, নাটক দেশের বহু জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলে বহুবার শুধু প্রদর্শিত হয়নি; জনপ্রিয়তা ও পুরষ্কার অর্জন করেছে।ইউটিউব চ্যানেলেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।স্বপ্ন পূরণের জন্য যেমন সমস্ত সিঁড়ি দেখার প্রয়োজন হয় না, প্রথম সিঁড়িটি দেখতে হয়।তেমনি জিএম মাল্টিভিশন স্বল্পদৈর্ঘ্য পর্যায়ের সিঁড়িগুলোতে সফলভাবে আহরণ করেছে।এখন তাই স্বল্পদৈর্ঘ্যের পর্যায় থেকে জিএম মাল্টিভিশনের সামনে উঁকি দিচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন বা প্রাত্যাশা।

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র যথার্থই বলেছেন, “লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে আমাদের পরিকল্পনা  দিয়ে তৈরী গাড়িতে চড়তে হবে।এটার উপর আমাদের পূর্ণ ভাবে বিশ্বাস রেখে নাছোড়বান্দার মত এগিয়ে যেতে হবে।এটা ছাড়া সাফল্যের আর কোনও পথ নেই!

আমার লেখা ভাল লাগলে কমেন্ট করুন এবং Follow করুন।সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। 

1 comment: